অবশেষে তিনি এলেন। ‘ঠিক সময়ে ট্রেন
চালানোর’ ব্যাপারে প্রমাণ করলেন তাঁর যোগ্যতা। প্রমাণ করলেন
যে, সাম্রাজ্যবাদের উচ্ছিষ্টভোজী ইতালিয় বধূর বরাভয় মুদ্রায়
নাঙ্গা সন্ন্যাসীর দেশে ফ্যাসিবাদের প্রতিষ্ঠা সম্ভব!
গত ক’হপ্তায় প্রায় ১০জন
বামপন্থী কর্মী তৃণমূলী ফ্যাসিস্ট-দের হাতে শহীদ হয়েছেন, মস্তিষ্ক
হারিয়েছেন মৃণ্ময় লেনিন, পদচ্যুত হতে হয়েছে আদর্শবান এবং
উন্নতশির ডাক্তার-কে। গ্রামাঞ্চলে আগুন জ্বলছে, পিতা-পুত্রের
ঝলসানো শরীরের শিখরে বসে পিকনিক করছে হত্যাকারীর দল। নিসুত রাতে চলছে ‘হায়নার আনাগোনা’। কিন্তু হারুন অল রশিদের মতন একবার করে এদিক-ওদিক ঢুঁ মেরে সংবাদপত্রে
নিজের উপস্থিতি জানান দেনেওয়ালী নেত্রী বলছেন— রাজ্যে শান্তি
বিরাজ করছে। সত্যিই! শান্তিই বটে! কবরের শান্তি!
সাধারণ মানুষ-কে কন্ডিশন
করতে মাধ্যমগুলো কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে। ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর
চাটনি তৈরি করতে ব্যস্ত। ১৩ তারিখে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে আজ অবধি প্রায়
৫শতাধিক সিপিআই-এম পার্টি অফিস এবং বিভিন্ন বাম ইউনিয়নের দপ্তর ওরা দখল করেছে,
সমর্থকদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে; কিন্তু সে
ব্যাপারে কাগজওলারা ‘টু’ শব্দটি করেনি!
বরং পার্টি অফিসগুলোতে পুলিশ
এবং তৃণমূলী-দের সাহায্যে অস্ত্র ঢুকিয়ে প্রচার করেছে যে সেসব দিয়েই নাকি
আলিমুদ্দিনের নেতারা ‘হার্মাদ ক্যাম্প’ চালিয়ে আসছিলেন এযাবতকাল! কেচ্ছা রচনার সুযোগ পেয়ে মুজরো খাটতে নামা
বাজারি কাগজওলাগুলোর বেজায় আহ্লাদ! লালা ঝরছে জিভ দিয়ে! বাংলার বামপন্থী জনগণ যেন
একখণ্ড লোভনীয় মাংসপিণ্ড!
ভাদুরে কুত্তা এবং বুনো
শূয়রগুলো যাতে মনুষ্য সমাজে ঢুকে যথেচ্ছ তছনছ করতে না পারে, তাই স্তালিন এদের
যথার্থ জায়গা, খোঁয়াড়েই আটকে রেখেছিলেন। ‘মহান বিপ্লবী’ ও লেখক অরওয়েল সাহেব এসে এদের
অর্গলমুক্ত করলেন। সুশীল-সুশীলা ও সংবাদকর্মীর বেশে এরা এসে দাঁড়াল পুঁজির সেবায়।
একজন বামপন্থী প্রাক্তন সাংসদ ‘ভাত’-এর
সাথে ‘আর’ জুড়লে ১টাকা দরে জমি পাওয়া
চার আনার সি.ই.ও. কাম সাংবাদিক থেকে ফরাসী-কাট দাড়িতে ‘ক্যানাইন
টিথ’ ঢেকে রাখা সম্পাদক অবধি ‘গেল’
‘গেল’ রবে চিৎকার ক’রে
উঠল। কিন্তু ‘জিভ টেনে ছিঁড়ে নেব শূয়রের বাচ্চা’-র মতন ‘মিষ্টভাষী’ হাফ-নেত্রী
আইনসভার ডেপুটি স্পীকার হ’লে এরাই লেজ নাড়তে নাড়তে তুলল
আদুরে গোঙানি।
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের
চতুষ্পদ জারজ মাংসাশী জীবগুলো একটা সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হ’ল— কে দিল এই সুযোগ? কেন আসে ফ্যাসিবাদ? কেনই বা মানুষ বেঁছে নেন এদের?
ফ্যাসিবাদ হ’ল বৈপ্লবিক
পরিস্থিতিতে সংগ্রাম গড়ে তোলার ব্যর্থতার ফলশ্রুতিতে গর্ভপাত। সংগ্রাম-ভীরুতা
প্রাথমিক ভাবে সমাজ গণতান্ত্রিক প্রবণতার জন্ম দেয়, আর তার
থেকেই উৎপন্ন হয় ফ্যাসিবাদের লার্ভা। বুর্জোয়া আবরণ-যুক্ত আধা-সামন্ততান্ত্রিক, আধা-ঔপনিবেশিক দেশে এরা পায় বেড়ে ওঠার পরিবেশ, ছড়াতে
থাকে মারণ জীবাণু। ৪০০ টাকা ভাতা বা তথাকথিত উন্নয়ন ক’রে
এদের রোখা যায়না। তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলে অঙ্কুরই এদের নির্মূল করতে হয়।
ফ্যাসিস্টদের সাথে আপোষ করলে একটা সময়ে শ্রমজীবী মানুষের সমস্ত সংগঠন একে একে বিনষ্ট
হয়।
‘আপোষপন্থী’ ‘ভাতা-নির্ভর’ ‘পাইয়ে দেওয়া’র রাজনীতির কারণে ফ্যাসিবাদ ফুলে ফেঁপে ওঠার সুযোগ পায়। এবং অস্বীকার করার
উপায় নেই যে, এক্ষেত্রে সমাজ গণতন্ত্রী ও কম্যুনিস্ট,
উভয় শিবিরেরই দায় থাকে। ফ্যাসিস্টদের ক্ষমতায় আসার বিবিধ কারণ
অনুসন্ধান করার সময় আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে ১৯৩৫ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম
আন্তর্জাতিক কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে কমরেড দিমিত্রভ-এর বলা এই কথাগুলো— ‘ফ্যাসিবাদ যে ক্ষমতায় আসতে পেরেছিল, তার প্রাথমিক কারণ, সমাজ গণতন্ত্রী নেতাদের
শ্রেণী-সমঝোতার নীতির জন্য বুর্জোয়াশ্রেণীর আক্রমণের সামনে শ্রমিকশ্রেণীর বিভক্ত
হয়ে যাওয়া ও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে নিরস্ত্র ব’লে
প্রমাণিত হওয়া।’ দিমিত্রভ আরও বলেছেন যে, ফ্যাসিস্ট-ক্ষমতা কায়েম হওয়ার পেছনে সমাজ গণতান্ত্রিক প্রবণতার সাথে সাথে
কম্যুনিস্ট পার্টিগুলোরও একটা ভূমিকা ছিল। সমাজ গণতন্ত্রীদের বিরুদ্ধাচরণ করা ছাড়া
সেদিন কম্যুনিস্টরা সাধারণ মানুষ-কে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নির্ণায়ক সংগ্রামে
নেতৃত্ব দেওয়ার মতো শক্তিই অর্জন করতে পারেনি।
দিমিত্রভ-এর বক্তব্য থেকে
আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। প্রাথমিক দুর্বলতা কাটিয়ে আজ নিজেদের উপযুক্ত শক্তি
হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। এটাই নিজেদের সংগঠিত করার সঠিক সময়। আজ সময় হয়েছে
আক্রমণাত্মক প্রচারে যাওয়ার। এই যুগ হ’ল আক্রমণের যুগ! এই তো সময় আরও বেশী করে
মানুষের কাছে যাওয়ার, তাদের থেকে শেখার। জল মাছের কাছে আসে
না, মাছকেই ফিরতে হয় জলের কাছে। কখনো এর ব্যতিক্রম ঘটেনা। উৎসের
দিকে যাত্রা করার এই তো সময়! এই তো সময় ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার, ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার।
নাহঃ, আমরা আশাহত নই। ‘অন্ধকার রাতের পর প্রভাতের সূর্যের রঙ-ও লাল! আবার দিনের শেষের ডুবন্ত
সূর্যটাও ডুবে যায় লাল রঙ ছড়িয়েই! কোথায় যায় সেই রঙ! সেই লাল রঙ ডুবন্ত
সূর্যটা জমা ক’রে যায় নতুন দিনের সূর্যের কাছে। এমনি ক’রে-ই প্রতিটি দিন আরও লাল হয়ে ওঠে! যা হারায়, সেটা আরও ভালভাবে ফিরে আসে’।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!

Simply asadharon !!!!!!
ReplyDeleteজবাব নেই, কমরেড্!
ReplyDelete