সিঙ্গুরের তথাকথিত অনিচ্ছুক
কৃষকদের জমি ফেরত সংক্রান্ত বিল নিয়ে পশ্চিমবাংলার রাজনৈতিক মহলে
এক চরম
বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। মাধ্যমগুলো নেমে পড়েছে এর সদ্ব্যবহার করতে। মমতার পা চাটার
কোনও সুযোগ ওরা ছাড়তে রাজি নয়। সাধারণ মানুষজনের মধ্যেও
বেশ উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। ভারতের ‘পবিত্র’ সংবিধানকে
মমতা কলা দেখিয়েছেন না দেখাননি, এই নিয়ে শুরু হয়েছে তর্জা। টিভি
চ্যানেল থেকে চায়ের দোকান, সর্বত্রই উত্তেজিত আলাপ-আলোচনা, চুলচেরা
বিচার-বিশ্লেষণ চলছে।
সিঙ্গুরের
‘৪০০ একর’ জমি মমতা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা
করবেন এটাই স্বাভাবিক। ঐ ‘৪০০ একর’ ওনার ইউ.এস.পি.।
কিন্তু
প্রশ্ন হ’ল, ১৮৯৪-এর কেন্দ্রীয় আইনে
সংশোধনী না
আনলে এটা কি আদৌ সম্ভব? দ্বিতীয়ত, জমি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্য
যখন পূরণ
হয়নি তখন ‘ইচ্ছুক’ ‘অনিচ্ছুক’ প্রভেদ
কেন? এতে কি
সংবিধানের
১৪নং ধারা লঙ্ঘিত হয় না? যাইহোক, এসব
কূট
প্রশ্নের উত্তর চেয়ে লাভ নেই, কারণ প্রয়োজনে মমতা সংবিধানের মুখে
লাথি মারবেন, এটাই প্রত্যাশিত। পেছনে যখন সন্ত্রাস-শিরোমণি ওবামা থেকে
বেহায়া-চূড়ামণি প্রণব মুখুজ্জ্যে রয়েছে তখন কে কি বলল তাতে ওনার কিস্যু আসে-যায়
না। সামন্তবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদের জোয়ালে যে দেশ গাঁথা, যে
দেশের মন্ত্রী মাথার ওপরের আকাশটাকেও বেচে দিতে পিছপা হননা, সে
দেশে আইন এবং সংবিধান যারা তৈরি করেন তারাই ওগুলো সবচেয়ে বেশী
লঙ্ঘন করেন। এটাই নিয়ম।
মমতার এই পপুলিস্ট ও
গিমিক-সর্বস্ব রাজনীতিকে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। কিভাবে তিনি দিনের পর দিন
বামপন্থীদের বিরুদ্ধে কুৎসা করছেন এবং ঢালাও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন, তাও মানুষকে
জানাতে হবে। তবে এর সাথে এই মুহূর্তে যেটা আমাদের প্রধান কর্তব্য তা হ’ল গ্রামাঞ্চলে যে সব কমরেডরা তৃনমূলী-ফ্যাসিস্টদের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন,
তাদের পাশে দাঁড়ানো, আস্থাস্থাপক বিজ্ঞপ্তি
দেওয়া— আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি, আগামী
দিনেও তোমাদের সাথেই থাকবো। কমরেডস, মানুষ বড় বিপন্ন,
আসুন, তাদের পাশে দাঁড়াই।

No comments:
Post a Comment