Man's dearest possession is life. It is given to him but once, and he must live it so as to feel no torturing regrets for wasted years, never know the burning shame of a mean and petty past; so live that, dying he might say: all my life, all my strength were given to the finest cause in all the world- the fight for the Liberation of Mankind. - Nikolai Ostrovsky

Wednesday, May 4, 2011

রক্তমুল্যে অর্জিত ফসলগুলোকে রক্ষা করুন (সম্পাদকীয় 'এই তো সময়' প্রথম বর্ষ নবম সংখ্যা, ৫ই মে, ২০১১)



মার্কিন সেনার গোপন অভিযানে আল কায়দাজঙ্গি গোষ্ঠীর নেতা বিন লাদেন নিহত হয়েছে। এই খবর পৌঁছানো মাত্রই হোয়াইট হাউজ-এ মোচ্ছব শুরু হয়ে গেছে। অক্সিজেন পেয়েছে গাড্ডায় পড়া ওবামা সরকার, আগামী নির্বাচনে নিশ্চিত হয়ে গেছে রাষ্ট্রপতির পদ।
এই অভিযানকে ৯/১১-র বদলাহিসাবেই দেখছেন আমেরিকার সাধারণ জনগণ। স্বজন হারাবার যন্ত্রণায় লাদেন-হত্যার প্রলেপ লাগাতে গিয়ে তারা ভুলেই গেছেন যে আফগানিস্তানের সোভিয়েতপন্থী সমাজবাদী নেতা নাজিবুল্লাহর নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটানোর লক্ষ্যেই (আই.এস.আই.এর সাহায্যে) লাদেন-কে তৈরি করেছিল তাদেরই প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বড়ো বুশ। তার ছেলে (এবং পরবর্তীকালে মার্কিন রাষ্ট্রপতি) ছোট বুশের পরিবারের সাথে লাদেনের ব্যবসায়ীক সম্পর্কও ছিল। নিজেদের তৈরি দানবের হাতেই ঝাড় খেয়েছে আমেরিকা, লাদেন হAdam of Victor Frankenstein’s labour
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বড়ো সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী শক্তি গোটা দুনিয়ায় আর আছে নাকি? লাদেন-রা তো বেয়াদব পুতুল মাত্র! তাই ওবামা লাদেন-কে যতই নিকেশ করুক, এতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বন্ধ হবে না। নিজের প্রয়োজনেই আর একটা লাদেন ওকে বানাতে হবে। আরব দেশের তেল এবং অন্যান্য সম্পদ লুঠ করতে, দেশে দেশে বামপন্থার ঢেউকে রুখতে একের পর এক লাদেন তৈরি করতে হবে ওকে,  ‘cultivate’ করতে হবে পিনোশে এবং সুহার্তো-দের। এটাই ওর, ওদের রাজনীতি; এটাই পচনশীল পুঁজিবাদের কাজের ধারা। একটা করে সন্ত্রাসবাদী একনায়ক-কে মাধ্যম এবং সবরকমের খুনে উপাদান দিয়ে সাহায্য করো এবং জনগণের আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দাও, ডুবিয়ে দাও রক্ত-সমুদ্রেএটাই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চিরাচরিত কৌশল।
ছোট আকারে হলেও ভারতবর্ষেও এই ঘৃণ্য কৌশল রূপায়ণের কাজ ইতিমধ্যেই আরম্ভ হয়ে গেছে।
ভারতের সম্পদ লুঠ করা ও নিজের দেশের আবর্জনার বোঝা ভারতবাসীর ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার পথে প্রধান বাধা বামপন্থীরা। তাই যে ক'রেই হোক ওদের সড়াতে হবে। প্রয়োজনে বামপন্থীদের ঘাঁটি বাঙলাকে রক্তে লাল করে দিতে হবে। আর সেই জন্যেই ওবামা বেঁছে নিয়েছে লুম্পেন-শিরোমণি মমতা আর তার কানকাটা সাঙ্গাত-দের। সাথে সাথে ওদিকে পোঁ ধরেছে কোটেশ্বর রাও-এর খুনে বাহিনী, মাংসের টুকরো পেতে লেজ নাড়তে শুরু করেছে এস.ইউ.সি.আই.
কিন্তু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আর তার তাঁবেদার-রা জানে না যে বাঙলার মানুষ রক্তমুল্যে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জন করেছেন। অতো সহজে তাঁরা জমি ছেড়ে দেবেন না। তাঁরা লড়াই ক'রেই বিজয়ের ফসলগুলোকে রক্ষা করবেন। হয় সংসদীয় পথে, নয় অন্য কোনো ভাবে।

No comments:

Post a Comment