মুসোলিনি ক্ষমতায় আসার আগে শহরে
এবং গ্রামাঞ্চলে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিল, কম্যুনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক
পার্টির লোকজন-কে ঘরছাড়া করে কায়েম করেছিলো গুণ্ডারাজ। ১৯২৬ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে
ইতালিতে গণতন্ত্রের টুঁটি চিপে হত্যা করা হয়, কিন্তু
গুণ্ডাগরদি শুরু হয়েছিল ঢের আগে থেকে। স্কোয়াড্রিজম ছিল মুসোলিনির সাংগঠনিক একক।
শ্রমিক-কৃষক দরদী সাজার সাথে সাথে মানুষকে সন্ত্রস্ত করতে হবে পৈশাচিক খুনে
বাহিনীর সাহায্যে—এটাই ছিল মুসোলিনির দর্শন। এই কাজে তার
সাহায্যকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল জমিদার, আমলা ও পুলিশ
প্রশাসন। বলশেভিক-দের প্রতি তাদের ভয়ই এর কারণ, কেননা
বলশেভিকরা ক্ষমতায় এলে এতদিনের লুটেপুটে খাওয়ার সুযোগটা হাতছাড়া হবে, সামাজিক ভাবে যারা নিম্নশ্রেণীর, তাদের কথায় চলতে
হবে। (মমতার উত্থানে সাবেক জমিদার-জোতদার এবং উচ্চবর্ণের লোকজন-দের উল্লাসের মূল
কারণ এটাই; করে-কম্মে খাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ‘ছয় কোটি হাসিম শেখ ও রামা কৈবর্ত’-র শাসন সহ্য করতে
না পারা। এর থেকে মুক্তি দিতে পারেন একজনই—তিনি মমতা।
মার্কিনীরাও তাই ওনাকেই ‘কাল্টিভেট’ করতে
চায়)
বামপন্থী বাগাড়ম্বরের
আড়ালে লাঠি-গুলির জোরে মানুষকে ভয় দেখিয়ে সরকারে আসাই ফ্যাসিবাদের উদ্দেশ্য। বুলির
জোর যতদিন কাজ করবে,
ততদিন চলবে গোপন অপারেশন; যখন তা আর কাজ করবে
না, তখন প্রকাশ্যেই খুলি উড়িয়ে দিতে হবে—এইটাই ওদের নীতি। ‘বুলি আর গুলি’ দুনিয়ার ফ্যাসিস্টদের উত্থানের দুটো প্রধান অস্ত্র। মমতা এগুলো ভালোই
জানেন। তাই মনিষ গুপ্ত ও রচপালের মতো প্রাক্তন আমলা এবং পুলিশ অফিসার ও
একদা-বামপন্থী প্রভাষ ঘোষ এবং পূর্ণেন্দু বসু-দের বলে বলীয়ান হয়ে তিনি এই গুরুদের
দেখান পথই অনুসরণ করছেন। গুণ্ডাদের মাঝে টি,আর,পি বাড়াতে সেকথা বুক ঠুকে জানিয়েও দিচ্ছেন বিভিন্ন সভায়। রাজনৈতিক
দেউলিয়াপনা এমন পর্যায়ে গেছে যে ১টাকা দরে জমি পাওয়া পেটোয়া সংবাদপত্রে ফালাও করে
চলছে ফ্যাসিবাদ কেন ভালো এবং ‘Mussolini made the
trains run on time’-এর বিজ্ঞাপন!
৭২ সালে ইন্দিরা-সঞ্চয়ের
পা-ধোয়া জল খেয়ে বাঙলা শাসন করতে এসেছিল মুসোলিনির আর এক উত্তরসূরি সিদ্ধার্থ রায়।
সেদিন জনতার জীবন ছিল বেয়োনেটের ডগায়। হাজার হাজার কম্যুনিস্ট বিপ্লবী-কে জেলে
পুরে গুপ্ত হত্যা করা হয়েছিল। ৭২ সালের ২৮-এ জুলাই খুন করা হয়েছিল নকশাল নেতা চারু
মজুমদার-কে। বিচারের প্রহসনটুকু করার সাহস ছিল না এদের। শ্রমিক-কৃষকের
আন্দোলনগুলোকে দমন করা হয়েছিল চরম নির্মমতার সঙ্গে। মিশা প্রয়োগ করে বিনা বিচারে
আটক করা হয়েছিল সর্বস্তরের মানুষকে। আর ইমারেজেন্সির কথা তো যত কম বলা যায় ততো
ভালো! অপরিসীম নারকীয়তার ইতিহাস! হ্যাঁ, ৭২ থেকে ৭৭-এর সেই কালো দিনগুলো ফিরিয়ে
আনার কথাই বলেছেন মমতা! নির্বাচনী প্রচার মঞ্চে উঠে স্বভাবসুলভ অঙ্গভঙ্গি করে
হুমকি ছুঁড়ে দিয়েছেন—‘৭২-৭৭ মনে আছে তো? কতো সাহস জানা আছে! সব তো পালিয়েছিল!’ আরও বলেছেন যে
তিনি রীতিমত ‘গুণ্ডা কন্ট্রোল’ করেন!
আহা! একেই বলে ডন দিদি! কী মধুর সংলাপ! মহান নাট্যগুরু কী শাত্রভ পড়ার ফাঁকে এই
অমৃতবাণী শ্রবণ করেছেন? শুনেও অবশ্য চুপ করেই থাকতে হয়... For a handful of silver and a ribbon on his collar...।
মুসোলিনি মুক্তকণ্ঠে
সন্ত্রাসের কথা বলত,
গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে নিশ্চিহ্ন করার কথা বলত। মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায়-ও বলেন। ক্ষমতায় আসার আগেই ফতোয়া জারি করেছেন যে শহরে
একমাত্র
শহিদ মিনার ময়দানেই সভা-সমাবেশ করা যাবে, অন্য জায়গায় নয়। নেত্রী বলেছেন— ‘যারা সভা করতে চাইবে, তারা ১৫ দিন আগে আবেদন করবে। তার পর
“আগে এলে
আগে পাবেন” ভিত্তিতে অনুমতি দেওয়া হবে’। মুসোলিনি শ্রমিকশ্রেণীর
আন্দোলনকে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর ছিল, মমতাও তাই। পেটোয়া শ্রমিক সংগঠন বানিয়ে
শ্রমিক আন্দোলনকে দমন করার ইঙ্গিতও তাঁর দেওয়া হয়ে গেছে এক বাজারি চ্যানেলের কাছে।
হুমকি দিয়েছেন—‘এক দিনে ইউনিয়ন ভেঙে যাবে!... ইউনিয়ন আসে-যায়। ও সব
আমি অনেক দেখেছি। যখন যে ক্ষমতায় থাকে, ইউনিয়ন তাদের দিকেই থাকে’।
বন্ধুগণ, গ্রামের কৃষক
জনগণ বাধ্য হয়ে প্রতিরোধে নেমেছেন। তাঁরা বাঙলা-কে প্রতিক্রিয়ার হাত থেকে মুক্ত
করার চেষ্টা করছেন। আপনারাও এগিয়ে আসুন। এটা কি ঘরে বসে থাকার সময়? অনেক অভাব-অভিযোগ আছে। কিন্তু এটা কী সেসব ভাবার সময়? তাকিয়ে দেখুন! ঐ আপনার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে ফ্যাসিবাদের
প্রতিমাস্বরুপিনী! আর সময় নেই, সমায় নেই আর! ঘৃণা করুন,
চিহ্নিত করুন, রুখে দিন, ধ্বংস করুন
ফ্যাসিবাদ-কে!

No comments:
Post a Comment