Man's dearest possession is life. It is given to him but once, and he must live it so as to feel no torturing regrets for wasted years, never know the burning shame of a mean and petty past; so live that, dying he might say: all my life, all my strength were given to the finest cause in all the world- the fight for the Liberation of Mankind. - Nikolai Ostrovsky

Thursday, April 21, 2011

দেবদাসীর সেবায় দেবতা তুষ্ট (সম্পাদকীয় 'এই তো সময়' প্রথম বর্ষ সপ্তম সংখ্যা, ২১শে এপ্রিল, ২০১১)


দিনে পাঁচটা করে সিপিএম মেরে নাস্তা করনেওয়ালা এমপি আগেই কাপড় ধরে টান মেরেছিলেনঝেড়ে না কাশলেও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন কিভাবে মার্কিন, জার্মান এবং ব্রিটিশ পুঁজির ব্যাটনে তাঁরা বাঁদর নাচ নাচছেন। ফলে ইজ্জৎ বাঁচাতে গামছা বিনা গতি ছিল না। কখন সামনে, কখন পেছনে, ঢাকাঢাকির ব্যর্থ প্রচেষ্টা চলছিল। কিন্তু জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের চেলাচামুণ্ডাদের কল্যাণে এবার সেই সুযোগটাও থাকল নাবিচ বাজারে গামছা উধাও! তৃণ-নেতৃত্বের নতুন শ্লোগান গো বেয়ার’!
দেবতা যে দেবদাসীর সেবায় তুষ্ট হয়েছেন তার অকাট্য প্রমাণ হাজির করেছে উইকিলিকস ২০০৯ সালের ২০ অক্টোবর কলকাতার আমেরিকান কনসুলেট থেকে গোপন বার্তায় মার্কিন প্রশাসনকে জানানো হয়েছে যে তৃণমূলীদের পক্ষ থেকে জনগণের সামনে বলা ফাঁপা কথাবার্তা, যাতে মার্কিন বিরোধিতার লেশমাত্র নেই, এবং ব্যক্তিগত স্তরে ব্যাপক ভাবে উচ্চপদস্থ মার্কিনী আধিকারিকদের সাথে দহরম মহরম গড়ে তোলা যথেষ্ট উৎসাহজনক সংকেত বহন করে। কনসুলেট কর্তৃপক্ষ তাই মনে করেন যে বর্তমান সিপিএম সরকারের থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনেক বেশি বন্ধুভাবাপন্ন হবে। [Her party's public rhetoric, devoid of any anti-Americanism, and private outreach to post's officers are encouraging signs that a Banerjee-led West Bengal government will be friendlier to the United States than the current CPI-M one] (দ্যা হিন্দু, ২১ এপ্রিল, ২০১১)
এই গোপন তথ্য ফাঁস আরও একবার প্রমাণ করেছে যে তৃণমূলীরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পোষা সারমেয়, বঙ্গ জননীর গর্ভের লজ্জারাজ্যটাকে বিকিয়ে দিতে তৎপর হয়ে উঠেছে ওরাঅমিত মিত্রর মতো ঝানু উদারপন্থী অর্থনীতিবিদদের আমদানির আসল কারণ এখানেই! একচেটিয়া পুঁজির দালাল মমতা-সোনিয়া জগদ্দল পাথরের মতো আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছে আমেরিকা-কে। দেশটাকে করে তুলতে চাইছে ইয়াঙ্কি আবর্জনাগার। মন্টেক থেকে অমিত মিত্রএই যজ্ঞের পুরোহিত। সাম্রাজ্যবাদ যাতে সর্বাত্মক ভাবে চেপে বসতে পাড়ে, সেই জন্যে এরা বাঙলার গ্রামাঞ্চলে ৭৮-এর পরাজিত সামন্ত শক্তির পুনরুত্থানও ঘটাতে চাইছে, কারণ আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে সামন্তবাদ-ই সাম্রাজ্যবাদী শোষণের ভিত্তি প্রস্তুত করে।
আর বসে থাকার সময় নেই বন্ধুগণ! আসুন, পথে নামি, সৃষ্টি করি এক সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মহাপ্লাবন! আসুন, প্রতিটা দিন, প্রতিটা মুহূর্তকে আঁকড়ে ধড়ি! এই তো সময় জল্লাদগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার, এই তো সময় নিজের ব্যালট-টাকে বুলেটের মতো ব্যবহার করার, এই তো সময় ভূমিষ্ঠ করার অষ্টম গর্ভের সন্তান-কে!

No comments:

Post a Comment