বাংলার মাটিতে প্রতিক্রিয়ার পুনরুত্থান ঘটানোর চেষ্টা চলছে। ১৯৭৮ সালে রমা কৈবর্ত, রহিম শেখদের
হাত ধরে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর জোতদার, জমিদার এবং গ্রামীণ বদ বাবুরা আশ্রয় নিয়েছিল গর্তের ভিতর। কয়েকজন আবার বিরোধী-ফ্রন্টের অসাবধানতার
সুযোগ নিয়ে জামা পাল্টে সেজেছিল গণতান্ত্রিক শক্তির নেতা-কর্মী। কিন্তু আজ যখন চরম অর্থনৈতিক মন্দায়
জর্জরিত সাম্রাজ্যবাদ মানুষের মাথা থেকে বামপন্থার ভূতকে উৎখাত করতে মরণ-পণ লড়াইয়ে নেমেছে,
গর্তের ঢাকনা সরিয়ে বেরিয়ে এসেছে ’৭৮-এর পরাজিত বিষধরেরা। লুটেরা এবং দলত্যাগীদের মঞ্চ তৃণমূল
কংগ্রেস এই প্রতিক্রিয়াশীলদের প্রধান অবলম্বন। সাম্রাজ্যবাদের নির্দেশে তৃনমূল নেত্রী
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে বাংলার হিসেবে গড়ে তুলতে এরা বদ্ধপরিকর। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের দলীয়
কোন্দলের ফলে ১৯৯৮ সালে বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দল তৈরি করেছিলেন। দিনে দিনে এই সংগঠন ক্ষুদে ফ্যাসিস্ট
আকার ধারণ করেছে।
দুনিয়ার সবচেয়ে ঘৃণ্য শত্রু মার্কিন
সাম্রাজ্যবাদের দামী বাজির নাম তৃণমূল কংগ্রেস। ভারতের বুক থেকে ‘বামপন্থা’ শব্দটাকে
খতম করার উদ্দেশ্যে ওরা বেছে নিয়েছে আত্ম-প্রতিষ্ঠাকামী নেত্রীর নেতৃত্বাধীন এই সংগঠনকে। সাম্রাজ্যবাদের কড়া নির্দেশ পেয়ে কংগ্রেস
দলও সুড়সুড় করে ল্যাজ গুটিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে তৃনমূলের সমর্থনে। প্রায় প্রতিদিন কংগ্রেস-কর্মীরা নিগৃহীত
হচ্ছেন তৃনমূলী গুণ্ডাদের হাতে। প্রদেশ সভাপতি মানস ভুঁইয়াকেও পায়ের কাপড় মাথায় তুলে
দৌড় করিয়েছে তৃনমূলীরা। কিন্তু
কংগ্রেসীদের ক্ষমতা নেই এর প্রতিবাদ করার। তাদের হাতে ডিসপোজাল যা যা আছে সবই দিতে হবে তৃনমূলকে। এটাই সাম্রাজ্যবাদের স্পষ্ট নির্দেশ। পার্টির ভিতরে বিরোধীদের দাবিয়ে দেওয়াই
এখন কংগ্রেস হাই কম্যান্ডের নীতি। অরুণাভ ঘোষ, শঙ্কর সিং, নির্বেদ রায়-এর মত
নেতাদের রীতিমত শাসনে রেখেছেন কংগ্রেস উচ্চনেতৃত্ব। অনেক নরমপন্থী ভাবছেন এটা কংগ্রেসের
মূল্যবোধের সংকট। তাঁরা
বুঝছেন না যে এটা সাম্রাজ্যবাদ ও তার সেবাদাসের সংকটকালীন মূল্যবোধ।
পশ্চিমবাংলায় কংগ্রেস পার্টি সাইনবোর্ডে
পরিণত হলেও, সংসদে তারাই সরকার চালাচ্ছে।একের পর এক কেলেঙ্কারিতে নিত্য নতুন
রেকর্ড তৈরি করছে। গত দেড় বছরে
এরা কয়েক লক্ষ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। কংগ্রেস-আশ্রিত মজুতদার এবং কালোবাজারিদের সুবিধা দিতে সরকার বাহাদুর দিনের পর
দিন নিত্য প্রয়োজনীয় আনাজের দাম বাড়িয়ে চলেছে। পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। গত সাতমাসে তেলের দাম বেড়েছে সাতবার!
জনবিরোধী কংগ্রেস পরিচালিত ইউপিএ২ সরকার ছাপিয়ে গেছে দুর্নীতির সমস্ত পুরোন রেকর্ড। শ্রমিক কৃষক এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের হাড়ের তৈরি সিংহাসনে
বসে মৌজ করছে মনমোহন-চিদাম্বরম-মমতা-শরদ পাওয়াররা। কেন্দ্রের গুদামে লক্ষ লক্ষ টন চাল-গম
পচছে তবু সেগুলো স্বল্প দামে নিয়ন্ত্রিত বিক্রয় সংস্থা মারফত গরীব মানুষের মধ্যে বণ্টন করা হচ্ছে না। দেশের জল-জঙ্গল সহ সমস্ত প্রাকৃতিক
সম্পদ বৃহৎ কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলোর হাতে তুলে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রান্তিক মানুষকে উচ্ছেদ করতে নানারকম
দমনমূলক কালাকানুন প্রয়োগ করতেও তারা পিছপা নয়। গত বাজেট-এও ‘আম আদমি’র নাম কোরে বৃহৎ
কর্পোরেট এবং মজুতদারদের
সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান ইউপিএ সরকারের দুর্নীতির অন্যতম
স্তম্ভ হলো রেল মন্ত্রক। বলা
বাহুল্য, এই দপ্তরের মালকিন হলেন ইউপিএ২ এর অন্যতম প্রধান জোটশরিক এবং এই সরকারের সমস্ত
জনবিরোধী নীতির সমর্থক তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিশ্রুতির ফাঁকা বুলি শুধু নয়, মমতা দেবী গোটা
মন্ত্রকটাকেই লাটে তুলে দিয়েছেন। লালু যাদব নাকি কিছুই করেননি, কিন্তু ৯৮ হাজার কোটি
টাকা অন্তত: রেখে
গিয়েছিলেন। প্রচুর করনেওয়ালা
মমতা রেলকে দেউলিয়া করে ছেড়েছেন। এমনি অবস্থা যে রেলে কর্মী সংকোচন করতে হয়েছে, হাজার
হাজার শুন্যপদ পড়ে আছে। এইসব
করেও বিন্দুমাত্র লজ্জিত নন রেলমন্ত্রী। তিনি তাঁর পেয়ারের "এঁটো-কাঁটাজীবি"-দের
(মাননীয় অরুণাভ বাবু
কে ধন্যবাদ) ২৫ হাজার, ৫০ হাজার, আবার ক্ষেত্রবিশেষে ৭০ হাজার টাকা মাসিক বেতন দিয়ে
পুষছেন। বাম-বিরোধী
আন্তর্জাতিক ব্রিগেডের সদস্য এইসব বুদ্ধিজীবীরা এখন রেলের কর্মী এবং বাংলার বুকে ফ্যাসিবাদ কায়েম করবার
অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারিগর। তৃণমূল নেত্রী সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির দালালি করে যে চাঁদির
বস্তা পেয়েছেন, সেখান থেকে দু'এক টুকরো ছুঁড়ে কিনে নিয়েছেন এঁদের। সার্থকনামা জীব এঁরা। বুদ্ধিকে বিবস্ত্র করে ডলারের শয্যাসঙ্গিনী
করে তুলতে এঁদের জুড়ি মেলা ভার। তিরিশ টুকরো রূপোর থেকেও কম দামে এঁদের কেনা যায়।
সাম্রাজ্যবাদী অর্থে বলিয়ান হয়ে, বুদ্ধিজীবী ও বাজারী গণমাধ্যমগুলো কে সঙ্গে নিয়ে,
তৃণমূল-কংগ্রেস ক্রমাগত ভুল বুঝিয়ে, বাংলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের আবেগ কে বিপথ
চালিত করছে এবং ক্রমান্বয়ে তাঁদের এই আবেগ কে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসতে চাইছে। এই প্রতিক্রিয়াশীলদের সাথে সাথে সাম্রাজ্যবাদী
দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ কিন্তু আজ প্রতিষ্ঠিত সত্য। যাদবপুর কেন্দ্রের 'বিদ্রোহী' তৃণমূলী
সাংসদ কবির সুমন
তাঁর লেখা একটি বইতে জানিয়েছেন যে, শিল্পী শুভাপ্রসন্নের রায়চকের বাগানবাড়িতে ২০০৯
সালের জানুয়ারি মাসে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং বিলেতের তিন কূটনীতিবিদের
সাথে তাঁর এবং তাঁর সাথীদের গোপন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওয়লফ বায়েরম্যানের ভাবশিষ্য নাকি নাইলন
তারের ক্লাসিকাল গীটার বাজিয়ে কনসাল-জেনারেলের মনোরঞ্জনও করেছিলেন।
আংশিক লাভের জন্য সমগ্র জনগণের জীবনকে
উপেক্ষা করে এই পচাগলা সামন্তবাদী শক্তির সঙ্গে জোট বেঁধেছে মাওবাদীরাও। এই সামন্তশক্তির ভাড়াটে বাহিনীর কাজ
করছে তারা। রণকৌশল গ্রহণ
করার নামে মাওবাদীরা এতটাই নিচে নেমেছেন যে ৮ই জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে তাঁরা সংবাদমাধ্যমকে
জানিয়েছেন, "To wipe out CPI(M) from West Bengal, we must work together
with all parties of the ruling class, like Trinamool Congress, Congress, BJP
etc..... Relations with Trinamool Congress and Railway Minister Mamata Banerjee
must be strengthened". তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে মাওবাদীদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রমাণিত
হয়েছে পিসিসি, সিপিআই(এমএল) নেতা সন্তোষ রাণার প্রেস বিবৃতি থেকে। রাণা বলেছেন, "It has been
our own experience in Lalgarh that the Maoists... are not ready to allow people
to participate in any political action which is different from them. Recently
they have attacked our party members and sympathizers in Jhargram area and
ordered them to sever connection with CPI (ML) and join the Trinamool Congress.
In the rural areas, the Trinamool Congress is a party inherited from the
Congress and is led by ex-landlords, usurers and bad gentry. In some areas they
are using the Maoists to eliminate genuine Left forces and establish the rule
of the reactionaries."
নকশালবাড়ির কৃষক অভ্যুত্থানের উত্তরাধিকার
দাবি করলেও, আসলে এই মাওবাদী নামক দল কাজ করছে অনেকটা জার্মান ব্রাউন শার্ট-এর মতন। তাঁরা ভুলে গেছেন যে নিপীড়িত বেকার
যুবকদের (ব্রাউন শার্ট) ওয়াইমার রিপাবলিক বিরোধী ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে আইনি পথে ক্ষমতা
দখল করে হিটলার জাতীয়তাবাদী হিড়িক তুলে কোতল করেছিল তাদের। হিটলারের হাতে ব্রাউন শার্ট-এর মারকুটে
লুম্পেনরা ঠিক যেভাবে নিশ্চিহ্ন হয়েছিল, বাংলার অগ্নিকন্যার হাতে মাওবাদীদেরও সেরকমই
অবস্থা হবে। প্রতিক্রিয়া-পন্থীদের
হাতের পুতুলে পরিণত হলে কী হয় তা মাওবাদীরা অন্ধপ্রদেশের অভিজ্ঞতা থেকেই দেখেছে। প্রয়াত কংগ্রেসী মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই.এস.আর.
রেড্ডী-কে চন্দ্রবাবু নাইডুর বিরুদ্ধে ভোটে জিতিয়ে আনার কৌশল কিভাবে গোটা সংগঠনকে পঙ্গু
করে দিয়েছে তা মাওবাদীরা হাড়ে-হাড়ে টের পেয়েছে। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা থেকে তারা যে কিছু
সেখেনি তা বাংলায় তাদের খুদে-ফ্যাসিবাদীদের সাথে সুবিধাবাদী জোট তৈরি করা
থেকেই পরিষ্কার।
মাওবাদী পার্টি ছাড়াও আরও দু'-একটি
বামপন্থী গোষ্ঠী, হয় ঘোমটার আড়ালে, নয় খোলাখুলি, যোগ দিয়েছে বাংলা বরবাদকারী জল্লাদ-সামন্তশক্তির
সাথে। বামপন্থী
বুলির আড়ালে জোতদার-জমিদারদের গায়ে গা ঘষে দু-চারটে আসন লাভও করতে পেরেছে এস.ইউ.সি.আই.
দল। মুখে নীতি-আদর্শের
কথা বললেও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে বিশ্বাসী এই দল যে আসলে সুবিধাবাদী ও অনৈতিক মানুষের
আড্ডা, তা নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন আজীবন বামপন্থী ও এস.ইউ.সি.আই. দলের পশ্চিমবঙ্গ
রাজ্য কমিটির সদস্য কম. বিধান চট্টোপাধ্যায়। তৎকালীন এস.ইউ.সি.আই. দলের পশ্চিমবঙ্গ
কমিটির রাজ্য সম্পাদক এবং বর্তমানে ওই দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক প্রভাস ঘোষ এবং
আর এক কেন্দ্রীয় স্তরের নেতা মাণিক মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে ভয়াবহ অভিযোগ করেছিলেন বিধান
বাবু। শিবদাস
ঘোষ এবং নীহার মুখার্জির মত প্রবাদপ্রতিম বামপন্থী নেতাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা, বিদেশী অর্থে
পুষ্ট এনজিও এবং দালাল চক্রের থেকে টাকা তোলা এবং মহিলা কর্মীদের সাথে "illicit
relationship"-এ জড়িয়ে পড়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে তাঁর চিঠিতে। বিধান বাবু তাঁর চিঠিতে জানিয়েছেন
যে অনেক চেষ্টা করেও তিনি এই ধরনের কার্যকলাপ আটকাতে পারেননি এবং তাই তিনি নিজের জীবন
শেষ করে দিচ্ছেন।এই
ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার কিছুদিন পর তিনি উড়িষ্যার পুরীতে গলায় ফাঁস আটকে আত্মহত্যা করেন। তৃণমূলের মতো একটা ক্ষুদে-ফ্যাসিস্ট দলের সাথে জোট করার
ক্ষেত্রেও তাঁর প্রবল আপত্তি ছিল বলে জানা যায়।
তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, আগ্রাসী গণমাধ্যম,
সাম্রাজ্যবাদী অর্থ, দু'-চার পিস তথাকথিত বাম কর্মী ও গোষ্ঠী এবং মাওবাদী মাস্লম্যানদের
সাহায্যে ক্ষমতায় এসে বাংলাকে শ্মশান বানাবার তাল করেছে তৃণমূল। পঞ্চায়েত ভোটে জেতার পর চরম তৃণমূলী-মাওবাদী
নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। তৃণমূলী
মাওবাদী যৌথ আধা-ফ্যাসিবাদী বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন তিন শতাধিক প্রান্তিক চাষি। খেজুরিতে অধিকারী কুলদীপক শুভেন্দু
তার ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী দিয়ে চার শতাধিক পাট্টাধারী কৃষককে উচ্ছেদ করে নিজের জমিদারীর
অংশ পুনরুদ্ধার করতে নেমেছে। জল্লাদ শুভেন্দুর নেতৃত্বে খেজুরিতে লেনিন মূর্তি ভাঙ্গা
হয়েছে। মাওবাদীরাও
কম যাচ্ছেন নাতাদের গণ-মিলিশিয়া এখন গ্রামে-গ্রামে লিবিডো চরিতার্থ করে বেড়াচ্ছে। একুশজন ইনসাস-ধারী আইসিডিএস কর্মী
ছবি মাহাতো কে ধর্ষণ করে জ্যান্ত পুঁতে দিয়েছে।
আগেই বলেছি তৃণমূলীরা সব কিছুর সাথে
সাথে কিছু মানুষের সরকার-বিরোধী আবেগকে কাজে লাগাতে চাইছে। ফ্যাসিস্ট শক্তির এটা একটা বিশেষ দিক। দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের চতুর্থ মহাসম্মেলন
পরিষ্কার ভাবে দেখিয়েছে, "...ফ্যাসিবাদের...বৈশিষ্টমূলক দিকটা হলো যে, ফ্যাসিবাদীরা
শুধুমাত্র আপাদমস্তক অস্ত্রে সজ্জিত প্রতিবিপ্লবী তৈরি করেনা, এর সাথে জনগণের মধ্যে-
কৃষক জনতা, পাতি বুর্জোয়া, এমনকি সর্বহারা শ্রেণীর কিছু অংশ- একটা ভিত্তি লাভ করতে
তারা সামাজিক আবেগকেও ব্যবহার করার চেষ্টা করে"। এই সামাজিক ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যেই
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ক্রমাগত মিথ্যা প্রতিশ্রুতির আশ্রয় নেন। এবং যেন তেন প্রকারে রাজ্য সরকারের
ভূমিকাকে মসিলিপ্ত করতে গণমাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করেন। বামপন্থীদের এই ব্যাপারে সজাগ হবার
সময় এসেছে। বামপন্থীদের
মনে রাখা দরকার যে ফ্যাসিবাদ মানে শুধু লগ্নীপুঁজির চরম দমন-পীড়ন নয়; এর নানা ধরণের
রূপ থাকা সম্ভব। এই নিয়ে
তৃতীয় আন্তর্জাতিকের নেতা কমরেড দিমিত্রভ অনেকবার আলোচনা করেছেন। চীনের নেতা কমরেড চৌ এন লাই-ও তাঁর
লেখায় দেখিয়েছেন কিভাবে চিয়াং কাইশেক-এর নেতৃত্বে বৃহৎ বুর্জোয়া ও বৃহৎ ভূস্বামীদের
নগ্ন হিংস্র ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম হয়।
কিন্তু ফ্যাসিবাদ কোনোদিন শেষ কথা
বলতে পারেনা।
"সভ্যতার সংকট"-এ রবীন্দ্রনাথ বলেছেন যে, "প্রবল প্রতাপশালীরও ক্ষমতা-র
মদমত্ত আত্মম্ভরিতা যে নিরাপদ নয় তারই প্রমাণ হবার দিন উপস্থিত হয়েছে।" মানব সভ্যতার প্রগতির পথ রুখবার
ক্ষমতা নেই নিপীড়নকারী শক্তিগুলোর। বাংলার প্রতিরোধী কৃষক প্রতিদিন এ'কথার সত্যতা প্রমাণ
করে চলেছেন পশ্চিম-মেদিনীপুরের লালগড়-জঙ্গলমহল অঞ্চলে, উত্তর চব্বিশ পরগণার হাড়োয়ায়,
দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ক্যানিং-এ।
প্রতিবাদী জনগণের এই লড়াইয়ের
মুখপত্র হবে "এই তো সময়"। আপনারা আমাদের বিপ্লবী অভিনন্দন গ্রহণ করুন।
No comments:
Post a Comment